অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ৫:০১ পূর্বাহ্ণ
![]()
নিজস্ব প্রতিনিধি
কর্মস্থলের নিরাপত্তা সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ প্রদান না করেই মোটা অংকের অর্থ নিয়ে শতশত জাল সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগে নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স থেকে দুই বাংলাদেশীকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়েছেন ব্রুকলীন ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী এরিক গঞ্জালেজ। ৮ সেপ্টেম্বর তাদেরকে গ্রেফতারের পর সোপর্দ করা হয় ব্রুকলীন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি ড্যানি চুনের এজলাসে। তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে ১০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যে প্রকাশ। এবং ৪ নভেম্বর তাদেরকে কোর্টে হাজির হবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টিগেশন কমিশনার নাদিয়া আই সিহাটাকে পাশে নিয়ে ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী গঞ্জালেজ গণমাধ্যমকে জানান , নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজের পূর্বশর্ত হচ্ছে স্টেট প্রশাসনের নির্দ্ধারিত ট্রেনিং গ্রহণ করার পর সার্টিফিকেট নেয়া। আর এ দায়িত্ব সম্পাদনের জন্যে বাংলাদেশী লুৎফুর রহমান (৩৪) এবং মোহাম্মদ তুষার (৩৪) কুইন্সের ১৪৬–০৪ হিলসাইড এভিনিউ এবং ব্রুকলীনে ৫২৯ ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউতে Ôরেডকোড ইনকÕ নামে দুটি অফিস খুলেন। এ অফিস থেকে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে পেশা শুরুর জন্যে Ôদ্য অক্যুপেশনাল সেইফটি এ্যান্ড হেল্থ এডমিনিস্ট্রেশনÕ তথা ওষাÕর ট্রেনিং দেয়ার কথা। কিন্তু তারা ট্রেনিং ছাড়াই অনেক মানুষকে সার্টিফিকেট দিয়েছেন বলে তদন্তে উদঘাটিত হয়। আর এভাবে জাল সার্টিফিকেট প্রদানের বিনিময়ে মাথাপিছু ৫০০ ডলার করে নেয়ার প্রমাণও পেয়েছেন তদন্তকারিরা। ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী উল্লেখ করেছেন, নির্মাণকাজ চলার স্থানে শ্রমিকসহ সকলের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রয়োজনীয় ট্রেনিংয়ের বিকল্প নেই। কিন্তু উপরোক্ত দুই ব্যক্তি প্রশিক্ষণের ন্যূনতম প্রক্রিয়া অবলম্বন না করেই সার্টিফিকেট ইস্যু করেছেন। এহেন অপকর্মে লিপ্ত থাকায় Ôরেডকোড ইনকÕর মালিক জ্যামাইকার বাসিন্দা লুৎফুর রহমান এবং সহযোগী হিসেবে হাওয়ার্ড বীচের বাসিন্দা মোহাম্মদ তুষারকে অবশ্যই কঠিন শাস্তির মুখোমুখী হতে হবে। ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী উল্লেখ করেছেন, গত বছরের ২২ এপ্রিল থেকে এ বছরের ১৬ জুলাই পর্যন্ত তদন্ত চালানো হয়। তদন্তকারিরা ছদ্মবেশ ধারণ করেন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে। তারা উপরোক্ত Ôরেডকোড ইনকÕর অফিস ভিজিট করেছেন। সে সময় রহমান এবং তুষার ৫০০ ডলার পেলেই একেকজনকে ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংয়ের ওষা কার্ড এবং সাইট সেইফটি ট্রেনিং (এসএসটি) কার্ড দিতে সম্মত হন। এজন্যে বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী কোন ক্লাস বা ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন নেই বলেও উল্লেখ করা হয়। কারণ তারা ব্যাক ডেটে ট্রেনিং প্রদানের যাবতীয় কাগজ রেডি রেখেছেন। এরপর তারা জাল সার্টিফিকেট ও ওষা কার্ড প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় বেশ কজন বাংলাদেশীসহ অর্ধ শতাধিক নির্মাণ শ্রমিক নিহত এবং আহত হয়েছেন। তারা ওষা কার্ডধারী এবং এসএসটি সার্টিফিকেটধারী হলেও ক্ষতিপূরণের মামলার সময় তার সত্যতা মেলেনি। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই হয়তো সার্টিফিকেট পেয়েছিলেন, যার খেসারত দিতে হয়েছে প্রাণের বিনিময়ে-অভিমত প্রবীন নির্মাণ ব্যবসায়ীগণের।
Posted ৫:০১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
nyvoice24 | New York Voice 24
এ বিভাগের আরও খবর